Skip to main content

Thumbs.db কি? কিভাবে Thumbs.db ডিলিট করতে হয়?

কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যাবহার করতে গিয়ে আমরা একটা জিনিষ থেকে সব সময় সাবধানে থাকি। নাম কি তাঁর! ভাইরাস! ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য কখনও আমরা নিজে নিজে কিছু ভাইরাস নামে পরিচিত ফাইল ডিলিট করি বা অ্যান্টি-ভাইরাস লাগায়। Thumbs.db ও ভাইরাস নামে বেশ পরিচিত। আমি আগে এটাকে ভাইরাস নামেই চিনতাম। কারন এটাকে ডিলিট করে দিলেও সাথে সাথে আবার একটা ফাইল তৈরি হয়ে যায়। আর সব ফটো ফোল্ডারের মধ্যেই থাকে এই ফাইলটা। আমার ধারনা আপনারাও মনে করেন। চলুন দেখি Thumbs.db আসলে কি?

Thumbs.db কি?
সাধারণত Thumbs.db প্রত্যেকটা ফটো ফাইল বা ফটো ফোল্ডারে স্বয়ংক্রিয় ভাবেই তৈরি হয়। এটা আসলে উইন্ডোজ এক্সপ্লোরারে Thumbnail (ছোট প্রিভিউ) ভাবে দেখানোর জন্য ক্যাশ (cache) ফাইল। Thumbs.db খুব দ্রুত ফটোটাকে ছোট করে এবং প্রিভিউ এর জন্য ফটো গুলোকে রেডি করে রাখে এবং তা দেখানোর জন্য ক্যাশ করে রাখে।
তাই স্বাভাবিক ভাবেই, আপনি যখন একটা ফটো ফোল্ডার খুলেন, আপনি তখন ফটোগুলোর ছোট প্রিভিউ (থাম্বনেইল) দেখতে পাবেন। এই যে প্রিভিউটা আপনাকে দেখালো দেখুন সাথে সাথে আপনার ওই ফোল্ডারে Thumbs.db নামে একটা ফাইল তৈরি হয়ে গেছে, মানে এই প্রিভিউটা ওই ফাইলে সেভ হয়ে গেল। যাতে করে পরের বার দ্রুত আপনাকে প্রিভিউ দেখাতে পারে।
নোটঃ Thumbs.db ফাইল বেশির ভাগ সময়ই হিডেন অবস্থায় থাকে। দেখতে চাইলেঃ মাই কম্পিউটার -> টুলস -> ফোল্ডার অপশনস -> ভিউ -> শো হিডেন ফাইলস অ্যান্ড ফোল্ডার।

Thumbs.db এর অসুবিধাঃ যদিও এটা খুব প্রয়োজনীয় ও সাহায্যকারী ফাইল, কিন্তু এটা হার্ডডিস্কের অনেকটা জায়গা খায়। এটা ফটো ফাইল অনুযায়ী জায়গা খায়, আপনি যদি ৫-৬ টা ফটো রাখেন কোন ফোল্ডারে সেখানে Thumbs.db ফাইল তৈরি করবে ৭-৮ কেবি মতো। আর আপনি যদি ৫০০-৭০০ ফটো রাখেন তাহলে Thumbs.db ফাইল তৈরি করবে ৭০০-৯০০ কেবি (প্রায় ১এমবি) মতো। আর এর থেকে বেশি ফটো রাখলে আরও বেশি জায়গা নষ্ট করবে এই Thumbs.db। এই Thumbs.db তৈরি অপশন থেকে বন্ধ করে এবং পূর্বের সব Thumbs.db ফাইল ডিলিট করে দিলেই আপনার কম্পিউটার হয়ে যাবে Thumbs.db ছাড়া। চলুন দেখি যেভাবে Thumbs.db ডিলিট করতে হয়।

যেভাবে Thumbs.db ডিলিট করতে হয়
  • মাই কম্পিউটার বা যেকোনো ফোল্ডার ওপেন করুন
  • টুলসে (উপরে, মেনু বারে) ক্লিক করুন
  • ফোল্ডার অপশনে ক্লিক করুন (ফোল্ডার অপশন না পেলে বা ভাইরাসের কারনে ডিলিট হয়ে গেলে, দেখে নিনঃ যেভাবে ফোল্ডার অপশন ফিরিয়ে আনতে হয়)
  • ভিউ ট্যাবে ক্লিক করুন
  • ডু নোট ক্যাশ থাম্বনেইলসে (Do Not Cache Thumbnails) টিক মেরে, অ্যাপ্লাই করে ওকে করুন।
এর পর থেকে আর Thumbs.db তৈরি হবে না। কিন্তু, যেহেতু আগে থেকে অপশনটা চালু ছিল তাই আগে অনেক Thumbs.db ফাইল আপনার কম্পিউটারে আছে ওই গুলো সার্চ দিয়ে ডিলিট করে দিন। নতুনদের জন্য সার্চ করার পদ্ধতিটা দেখাচ্ছি, যারা জানেন তারা প্লিজ মাইন্ড কইরেন না।

যেভাবে Thumbs.db সার্চ দিয়ে ডিলিট করবেন?
  • স্টার্ট মেনু -> সার্চ
  • অল ফাইলস অ্যান্ড ফোল্ডারে ক্লিক করুন
  • “অল ওর পার্ট অফ দা ফাইল নেম” বক্সে Thumbs.db লিখুন এবং লোকাল হার্ড ড্রাইভসে সব গুলো ড্রাইভ সিলেক্ট করে সার্চে ক্লিক করুন
  • দেখুন অনেক গুলো Thumbs.db ফাইল খুঁজে পেয়েছে, সিলেক্ট অল করে ডিলিট করে দিন।

Thumbs.db ফাইল খুব একটা ক্ষতিকর কিছুই না। এখন এটা ডিলিট করা না করা সম্পূর্ণ আপনার ইচ্ছা।

উইন্ডোজ ৭-এ এই ভাবেই কাজ হবে। আর ডিস্ক ক্লিনারে, ডিস্ক সার্চ দিলে কয়েকটা পদের জিনিষ সে পাই, এর মধ্যে দেখুন থাম্বস ডিবি ডিলিট করার অপশনও আছে। ওটা সিলেক্ট করে ডিস্ক ক্লিন দিলেই চলবে। 

Comments

Popular posts from this blog

LCD এবং LED এর মনিটরের মধ্যে পার্থক্য

LCD এর পুরো নাম Liquid Crystal Display আর LED এর পুরো নাম হলো Light Emitting Diode। LCD ডিসপ্লেতে প্রতিটি পিক্সেল তিনটি সাবপিক্সেলে বিভক্ত যাদের একটি লাল, একটি সবুজ এবং অবশিষ্টটি নীল রং বিশিষ্ট। এদের একটি অপরটির সাথে বিভিন্ন ফিল্টার দ্বারা যুক্ত থাকে। যেমন পিগমেন্ট ফিল্টার, ডাই ফিল্টার এবং মেটাল অক্সাইড ফিল্টার। প্রতিটি সাবপিক্সেলের বর্ণ বিভিন্ন মাত্রায় পরিবর্তন করে পিক্সেলকে লাকখানেক রং প্রদান করা যায়। এভাবে প্রতি মিলিসেকেন্ডে বারবার রং পরিবর্তনের মাধ্যমে রাঙিয়ে তুলছে LCD ডিসপ্লে। LED মুলত একটি ছোট আকারের আলোক নিংসরণকারী যন্ত্র। এলইডি ডিসপ্লের ইতিহাস আলোচনা করতে গেলে এই বস্তুটির ইতিহাস জানা আবশ্যক। এটি যুগের বিবর্তনে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হয়ে এবং হাজার হাজার এলইডি একত্রিত হয়ে তৈরী করেছে আজকের এলইডি ডিসপ্লে। এলসিডি ও এলইডি ডিসপ্লে নিয়ে অনেকের মাঝে নানা ধরনের বিভ্রান্তি আছে। প্রযুক্তিগত দিক থেকে ব্যপারটা এই রকম যে, এলইডি (লাইট এমিটিং ডায়োড) কে এলসিডি ডিসপ্লের ব্যাকলাইটিং এর জন্য যখন ব্যবহার করি তখনই আমরা তাকে বলি এলইডি ডিসপ্লে। মনিটরের ব্যাকলাইটের ক্ষেত্রে এলইডি আগের যে প...

নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর কিভাবে কাজ করে?

২০১৩তে জাপানে চার চারটি নিউক্লিয়ার রিয়াক্টরের বিস্ফোরণ ঘটে,যা পুরো বিশ্ববাসীকে হুমকির সামনে ফেলে দিয়েছিল। সবারই নজর তখন জাপানের পারমাণবিক বিস্ফোরণের দিকে ছিল। তো আসুন কিভাবে নিউক্লিয়ার রিয়াক্টর কাজ করে দেখার চেষ্টা করি বুজার চেষ্টা করি সহজ ভাবে। নিউক্লিয়ার প্লান্ট ইলেক্ট্রিসিটি তৈরি করে কিভাবে ? নিউক্লিয়ার প্লান্টে ইলেক্ট্রিসিটি তৈরি করতে কয়লা, তেল অথবা গ্যাসের ন্যায় কিছুর প্রয়োজন হয় না। শুধুমাত্র উত্তপ্ত পানির বাষ্পের দরকার হয়। এই বাষ্প টারবাইনকে ঘোরায় এবং ইলেক্ট্রিসিটি তৈরি হয়। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট :  দুই প্রকার নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট রয়েছেঃ ১। Boiling water reactors ২। Pressurized water reactors ১। Boiling water reactors:  এখানে রিয়াক্টরের চারপাশে পানি প্রবাহ করে জ্বালানি রড ঠান্ডা ও বাষ্প তৈরি করা হয়। বাষ্প রিয়াক্টর ভেসেলের মাধমে সরাসরি টারবাইনে এবং টারবাইন থেকে জেনারেটরের সাহায্যে ইলেক্ট্রিসিটি তৈরি করা হয়। ২। Pressurized water reactors: এখানে রিয়াক্টরকে ঠান্ডা রাখার জন্য প্রবাহিত পানি যেনো বাষ্পে পরিণত হতে না পারে তাই চাপ সৃষ্টি করা হয়। পানি...

বিগ ব্যাং থেকে বর্তমান মানব সভ্যতার সৃষ্টি [পর্ব ৩] প্রথম ‘প্রাইমেট’ এর উৎপত্তি থেকে পৃথিবীতে প্রথম আধুনিক মানুষের আবির্ভাব

‘বিগ ব্যাং’, মহাবিশ্বের সূচনা, মহাবিশ্বের সব কিছুর উৎপত্তি। সকল পদার্থ ও শক্তির সৃষ্টি। আজ থেকে প্রায় ১৪০০ কোটি বছর আগে পরমানুর চেয়েও বহুগুন ক্ষুদ্র প্রায় শুন্য আয়তনে ঘটা একটি বিস্ফোরনের মধ্য দিয়ে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি। ‘বিগ ব্যাং’ এর পর সময়ের পরিক্রমায় ধাপে ধাপে এই মহাবিশ্ব বর্তমান অবস্থায় আসে। গ্রহ, নক্ষত্র, গ্যলাক্সি সব কিছুর শুরু ‘বিগ ব্যাং’। ‘বিগ ব্যাং’ এর পর পর্যায়ক্রমে পৃথিবীর সৃষ্টি এবং পৃথিবীতে ‘প্রথম প্রান’ সৃষ্টির উপযুক্ত পরিবেশ গঠিত হবার সময় পর্যন্ত একটি ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়েছিল প্রথম পর্বে। দ্বিতীয় পর্বে তুলে ধরা হয়েছে পৃথিবীতে ‘আদি-প্রাণ’ নামক প্রথম প্রাণের সৃষ্টি হবার পর পর্যায়ক্রমে বর্তমান মানুষের সরাসরি পূর্বপুরুষ ‘প্রাইমেট’ এর উৎপত্তি পর্যন্ত সময়ে প্রাণের ক্রমবিকাশের ধারা। এখন তৃতীয় পর্বে উল্লেখ করা হচ্ছে প্রথম ‘প্রাইমেট’ এর উৎপত্তি থেকে পৃথিবীতে প্রথম আধুনিক মানুষের আবির্ভাব পর্যন্ত সময়ে প্রাইমেট ও পৃথিবীর বিভিন্ন পরিবর্তন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা। পাচ কোটি বছর পূর্বে আমাদের পূর্বপুরুষ ‘প্রাইমেট’ দের উদ্ভব হয় পৃথিবীতে। সেসময় আফ্রিকা ও আমেরিকা ম...